এবার ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের মধ্যে বিরোধ

100

যুক্তরাজ্যে ব্রেক্সিট অচলাবস্থা নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় কাঙ্ক্ষিত কোনো ছাড় পায়নি বিরোধী দলগুলো। নিজ দলের বিদ্রোহী এবং সরকারের শরিক দলকে এক করে চুক্তি পাস করিয়ে নেওয়ার কৌশল নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। ফলে ব্রেক্সিট নিয়ে বহুমুখী যে বিরোধ, সেটি এখন অনেকটা ক্ষমতাসীন বনাম বিরোধী দলের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।

গত মঙ্গলবার পার্লামেন্টে ব্রেক্সিট চুক্তি প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় পর তিন কর্মদিবসের মধ্যে নতুন প্রস্তাব নিয়ে পার্লামেন্টে হাজির হওয়ার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রীর। সেই অনুযায়ী গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী মে পার্লামেন্টে হাজির হন। তবে তিনি প্রত্যাখ্যাত হওয়া চুক্তির পক্ষেই কথা বলেছেন। কেবল আয়ারল্যান্ড সীমান্ত উন্মুক্ত রাখার নিশ্চয়তা দেওয়া ‘ব্যাকস্টপ ব্যবস্থা’র আপত্তি নিরসনে বিকল্প পথ খোঁজার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। একে একে বিরোধী দলগুলোর সব দাবি নাকচ করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইইউ’র সঙ্গে নির্ধারিত আলোচনার শর্ত অনুযায়ী চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিটের সম্ভাবনা বাদ দেওয়া সম্ভব নয়। পুনরায় গণভোটের দাবিতে সংসদে যথেষ্ট সমর্থন নেই, তাই এ দাবিও তিনি মানছেন না। তবে আগামী মঙ্গলবার নির্ধারিত ভোটাভুটির আগে চুক্তিতে কি পরিবর্তন ঘটতে পারে—সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছুই বলেননি মে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিরোধীদের চাওয়া পূরণ করতে গেলে ক্ষমতাসীন দলের গৃহবিবাদ আরও চড়াও হবে। অন্যদিকে বিতর্কিত ‘ব্যাকস্টপ ব্যবস্থা’ বাদ দিতে পারলে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দলের বিদ্রোহীরা এবং সরকারের শরিক দল ডিইউপি চুক্তিটি সমর্থন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একেই চুক্তি পাসের সহজ সমাধান ভাবছে সরকার। কিন্তু ‘ব্যাকস্টপ ব্যবস্থা’ নিয়ে ইইউ’র তরফ থেকে ছাড় দেওয়ার কোনো ইঙ্গিত এখনো মেলেনি।

বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন বলেন, যে মাত্রায় ব্রেক্সিট চুক্তি প্রত্যাখ্যাত হয়েছে, সেটিকে উপেক্ষা করতে চাইছেন প্রধানমন্ত্রী মে। ইইউর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখা এবং কাস্টমস ইউনিয়নে যুক্ত থাকার বিষয়ে লেবার দলের প্রস্তাবগুলো নিয়ে সাংসদদের মতামত যাচাইয়ে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। লেবার দলীয় সাংসদদের আরও তিনটি পক্ষ বিচ্ছেদের সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়া এবং পুনরায় গণভোটের দাবি জানিয়ে আলাদা আলাদা প্রস্তাব উত্থাপন করেছে। এসব প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি হবে কি না, সেটি স্পিকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তবে এসবের কোনো একটি প্রস্তাব পাস হয়ে গেলে, আবারও হোঁচট খাবে সরকার।

ক্ষমতাসীন দলের বিচ্ছেদপন্থী এবং বিচ্ছেদ বিরোধী সব সাংসদকে চুক্তির পক্ষে একতাবদ্ধ রাখাই এখন থেরেসা মে’র আসল চ্যালেঞ্জ। সোমবার সংসদে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে ইইউ নাগরিকদের নিবন্ধন ফি বাতিল ঘোষণা করেন, যা ছিল ৬৫ পাউন্ড। ফলে ইইউ নাগরিকেরা কোনো ফি ছাড়াই যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসের আবেদন করতে পারবেন। সংসদের মতামত নিয়ে নতুন করে ইইউ’র সঙ্গে সমঝোতার জন্য যাওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যে প্রায় ৩৫ লাখ ইইউভুক্ত দেশের নাগরিক বসবাস করছে। ব্রেক্সিটের পর এসব নাগরিকের যুক্তরাজ্যে থাকতে হলে, তাদের অবশ্যই ব্রিটিশ ভিসা নিতে হবে। গত সোমবার থেকে যুক্তরাজ্যে ইইউ নাগরিকদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here